এই সাইটের বাংলা লেখাগুলো ইউনিকোড দিয়ে কোডকৃত। বাংলা ঠিক মতো দেখতে না পেলে বুঝতে হবে আপনার কম্পিউটারে ইউনিকোডের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সফটওয়ার বসাতে হবে। অপারেটিং সিস্টেমের উপর নির্ভর করে সফটওয়ার বসানোর পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে। বিস্তারিত এখানে দেখুন । বাংলা অক্ষর খুব ছোট দেখালে আপনাকে ভালো একটি বাংলা ইউনিকোড ফন্ট ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে। আমরা বিনামূল্যে পাওয়া একুশে লোহিত ফন্টকে কম্পিউটার মনিটরে খুব সুন্দর করে দেখানোর উপযোগী করেছি। এটার নাম অপনালোহিত। অপনালোহিত অনেকটা বৈশাখী ফন্টের মতো, কিন্তু ইউনিকোড সমর্থিত। ডাউনলোড করুন এখান থেকে। আপনি ইচ্ছে হলে এ সাইটের ইংরেজী সংস্করণও দেখতে পারেন।
বাংলা ওয়েব সাইট নির্মাণ ইমেল

সম্প্রতি বাংলা ওয়েব সাইট তৈরী বা পুরাতন সাইটকে নতুন রূপে বাংলায় উপস্থানের বেশ একটা চল শুরু হয়েছে। ইউনিকোড আসার পর থেকে এ কাজটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তারপরও ভাল একটা বাংলা সাইট নির্মাণ করতে হলে বেশ কিছু বিষয় জানার প্রয়োজন আছে। এ লেখায় তা আলোচনা করা হয়েছে।

ফ্রন্টপেজ বা সেরকম কোন সফটওয়ার এমনকি সরাসরি এইচটিএমএল কোড লিখে ইংরেজীর মতো বাংলা ওয়েব পেজও বানানো যায়। বিষয়বস্তুর পরিবর্তন ঘটে না বলে এ ধরনের পেজকে স্ট্যাটিক বলা হয় সাধারণত।  ডায়নিক ওয়েব পেজ সাধারণত পিএইপি বা এএসপি কোড লিখে তৈরী করতে হয়। এসব ওয়েব সার্ভারে রান করে এবং আউটপুট হিসাবে এইচটিএমএল ফাইল  উৎপন্ন করে।এইচটিএমএল ফাইলে বাংলা লেখা দুই ভাবে প্রবেশ করানো যেতে পারে- গতানুগতিক বিজয় বা সেরকম পদ্ধতি, অথবা অধুনা জনপ্রিয় ইউনিকোড পদ্ধতিতে।

পুরাতন পদ্ধতি:

এ পদ্ধতিতে ওয়েব পেজ বানাতে আপনাকে একটা বাংলা ফন্ট বাছাই করতে হবে। ফন্ট বাছাই করার সাথে আপনি তার এনকোডিংও আমলে নিবেন, কারন কোন আদর্শ না থাকায় এক এক ফন্ট এক এক কোডিং মেনে চলে। এরপর আপনার একটা টেক্সট এডিটর বা ওয়ার্ড প্রসেসর প্রোগ্রাম দরকার হবে ঐ ফন্ট ব্যবহার করে লেখার জন্য। আবার বাংলা অক্ষর প্রবেশ করানোর জন্য একটা কি-ম্যাপিং সফটওয়ারও প্রয়োজন হবে। সাধারণত, ফন্ট ও কি-ম্যাপিং সফটওয়ার একই প্রতিষ্ঠান তৈরী ও বিক্রী করে থাকে। আরো সহজ করে বললে, আপনি বিজয় সফটওয়ার ও এর সাথে আসা যে কোন ফন্টকে ব্যবহার করতে পারেন ফ্রন্টপেজ বা ওয়ার্ডের সাথে। বাংলায় একটু আধটু টাইপ করার অভিজ্ঞতা থাকলে এসব কিছু পরিচিত থাকার কথা।

ইংরেজী ওয়েব পেজ বানাতে গেলে যে পদ্ধতিতে এগোতে হয় বাংলার বেলায়ও তেমনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ওয়েব পেজের ভিজিটর বা ভ্রমণকারীরা বাংলা লেখা দেখবেন কীভাবে। এ ক্ষেত্রে মোদ্দা কথা হলো, ভ্রমণকারীর কম্পিউটারে আপনার ব্যবহৃত ফন্টটি থাকতে হবে। যদি না থাকে, তবে আপনি ফন্টটিকেও আপনার ওয়েব সাইটে রাখতে পারেন ডাউনলোডের জন্য। তবে এ ক্ষেত্রে ফন্ট কোম্পানির যথাযথ লাইসেন্স অনুমতি থাকতে হবে। আবার ভ্রমণকারীকে তার কম্পিউটারে ডাউনলোড করা ফন্ট ইনস্টল করতে পারতে হবে। এ পদ্ধতিতে বেশ কিছু পুরানো বাংলা ওয়েব সাইটে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো ফন্ট এমবেডিং বা ডায়নামিক ফন্ট। ডায়নামিক ফন্ট মাইক্রোসফটের বিশেষ প্রযুক্তি তাই এর বেশ সীমাবদ্ধতা আছে। এ পদ্ধতিতে আগের মতো ওয়েব পেজ বানাতে হবে। তারপর, WEFT (মাইক্রোসফট থেকে বিনা পয়সায় নামানো যায়) টুল দিয়ে ব্যবহৃত ফন্টটির একটি EOT ফন্ট বানাতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিয়ে ওয়েবে সুন্দ টিউটোরিয়াল আছে। এবার EOT সহ ওয়েব পেজকে ওয়েব সার্ভারে রাখতে হবে। এবার ডায়নামিক ফন্ট সমর্থন করে এমন ব্রাউজার (শুধুমাত্র ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার) দিয়ে ঐ ওয়েব দেখতে গেলে ভ্রমণকারীর কম্পিউটারে যদি উক্ত ফন্টটি না থাকে তবে IE ওয়েব সাইট থেকে

সমস্যা-

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের উপর পুরোপুরি নির্ভরতা ছাড়াও পুরোনো পদ্ধতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গুগল বা যে কোন সার্চ ইঞ্জিন এসব পেজকে ইংরেজী ভাষার মনে করে, কিন্তু অর্থবোধক কিছু পায় না। ফলশ্রুতিতে এ ধরনের ওয়েব সাইটকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় ওয়েব পেজে কি-ওয়ার্ড যোগ করা থাকে, কিন্তু গুগল ও অন্যান্য ক্রলার এসব শব্দকে খুব একটা পাত্তা দেয় না।

উদাহরণ-

  • ওয়েব পেজের জন্য আজ অবধি বৈশাখী সবচেয়ে সুন্দর ফন্ট। এটি স্ক্রীনে খুব সুন্দর দেখায়, পাওয়া যায় বিনা মূল্যে। বৈশাখী ব্যবহার করতে চাইলে, এর জন্য উপযোগী কি-ম্যাপিং সফটওয়ার প্রয়োজন হবে। বৈশাখীর নির্মাতা আল্পনার ওয়েব সাইটে বিস্তারিত জানা যাবে।
  • প্রকাশনার কাজে বিজয় সবচেয়ে জনপ্রিয়। বিজয় দিয়েও অনেকে ওয়েবপেজ বানান ও ব্যবহৃত ফন্ট ভ্রমণকারীদের নামানোর জন্য রেখে দেন। দৈনিক ভোরের কাগজ এমন একটি সাইট।
  • জনপ্রিয় দৈনিক প্রথম আলো ডায়নামিক ফন্ট ব্যবহার করে, ফলে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ছাড়া অন্য কোন ব্রাউজারে তা দেখা যায় না।

ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা

কোন আদর্শ না থাকায় নির্দিষ্ট কোন বাংলা ফন্টে লিখলে তা অন্য কোন ফন্টে দেখা যায় না। এ সমস্যার সমধান করেছে ইউনিকোড। ইউনিকোড বাংলা এবং পৃথিবীর অন্য সব ভাষার অক্ষর, প্রতীক ইত্যাদিকে একটা প্রমিত রূপ দিয়েছে। ফলে ইউনিকোড মানে এমন যে কোন সফটওয়ার নির্বিঘ্নে ডাটা আদান প্রদান করতে পারে। তবে, এখনও সব সফটওয়ার পুরোপুরি ইউনিকোড মানে না। ইউনিকোড ভিত্তিক ওয়েব পেজের বেলায়, অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার উভয়কেই ইউনিকোড সমর্থিত হতে হবে। সুখের কথা, এখন জনপ্রিয় সব অপারেটিং সিস্টেম ও ব্রাউজার ইউনিকোড সমর্থন করছে। কাজেই এখন বাংলা ওয়েব সাইট বানাতে হলে তা ইউনিকোড ভিত্তিক করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা লিখতে গেলে আপনার একটা যথোপযুক্ত ফন্ট ও কি ম্যাপিং সফটওয়ার দরকার হবে। তবে ভ্রমণকারীর কম্পিউটারে আপনি যে ফন্ট ব্যবহার করেছেন সেটা না হয়ে অন্য যে কোন ইউনিকোড সমর্থিত বাংলা ফন্ট থাকলেই চলবে। কাজেই কারো যদি একটি বাংলা ফন্টও থাকে তবে ইউনিকোড ভিত্তিক বাংলা ওয়েব পেজ দেখতে সমস্যা হবে না। মাইক্রোসফট উইন্ডোড এক্সপির সাথে ভ্রিন্দা নামে একটি বাংলা ফন্ট দেয়া আছে। ইন্টারনেটেও একাধিক ফন্ট পাওয়া যায়, বিনামূল্যে। এডিটর হিসাবে নোটপ্যাড বা ফ্রটপেজ ব্যবহার করা যায়। কি-ম্যাপিং সফটওয়ার হিসাবে অভ্র বেশ নাম করেছে।

উদাহরণ-

ইউনিকোড ব্যবহার করে এমন কিছু ওয়েব সাইট হলো

অনেকের হয়ত এখনও জানা নেই যে গুগল, ইয়াহু, লাইভ সহ প্রায় সব জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিনে সরাসরি বাংলায় লিখে সার্চ করা যায়।

 

ইউনিকোডের অসুবিধা-

  • ইউনিকোডে সাধারণত ফোনেটিক উপায়ে টাইপ করতে হয় বলে প্রচলিত পদ্ধতিতে অভ্যস্ত লোকদের পক্ষে টাইপ করা বেশ কঠিন।একই কারনে, প্রকাশনা যেখানে সবচেয়ে বেশী কম্পিউটারের ব্যবহার হয়, সেখানে ইউনিকোড এখনও বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি।এর আরেকটি কারন হলো এডবির সফটওয়ারগুলোতে ইউনিকোডের দুর্দশা।
  • ফোনেটিক পদ্ধতিতে টাইপ করতে বাংলা ব্যকরণের অনেক নিয়ম জানা থাকতে হয়।এ ব্যপারটিও অনেকের জন্য কষ্টসাধ্য। অনেকে ইংরেজী বানানে বাংলা লিখেন, এরা সৌখিন ধরনের।
  • ইউনিকোডে বাংলা সংযুক্ত বর্ণের জন্য কোন নির্ধারিত কোড নেই। তাই সংযুক্ত বর্ণকে তার গঠনকারী বর্ণসমূহের মাঝে মাঝে হসন্ত দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এতে দেখতে কোন সমস্যা না হলেও মেমোরিতে প্রচুর স্থানের অপচয় হয়।
  • ইউনিকোডে আবার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পদ্ধতি যেমন utf-8, utf-7, utf-16 ইত্যাদি থাকায় বাংলার মতো ভাষার ক্ষেত্রে প্রচুর মেমোরি ও ব্যান্ডউইড অপচয় হচ্ছে। উদাহরণ স্বরুপ, ক্ষ অক্ষরটির জন্য ৯ বাইট জায়গার প্রয়োজন হয়।
 
< পূর্বে   পরে >
 
Template by Joomlashack